বাষ্প

আজ তোর বারান্দাতেও শীত নামছে তনিমা। ভেবেছিলি?

আমিও ভাবিনি। কিন্তু এরকম অনেক কটা না ভাবা জুড়ে জুড়ে একটা কবিতা, 
না, 
হয়তো কবিতা নয়, একটা দেশ হতে পারত।

হয়তো।

হয়তো বা সেই দেশে ঠিক এরকম একটা বারান্দা থাকতো তোর বাড়িতে। আমি থাকতাম বারান্দায়। তুই থাকতিস?

হয়তো বা, শীত এসে তোর গালে জুড়িয়ে যেত। তোর ঠান্ডা চোখের জল মিশে যেত তোর হাতের কাপের আমেরিকানোর ধোঁয়ায়। আমি পাশে বসে চা খাচ্ছি ধরে নে। সেই দার্জিলিং থেকে অলিগলি ঘুরে কেনা চা। 

বাকি বাড়িটা বাদ দে তনিমা, এরকম একটা বারান্দা চাই আজও। 

ধরে নে, নিচে অনেক দূরে ভুটিয়া বস্তি। ওরা আগুন জেলেছে। মদ খাবে, বনমুরগী খাবে, আর গীটার বাজিয়ে সারা রাত গাইবে। সকাল অব্দি চলবে, যতক্ষণ না আগুন নিভে যায়। তারপর ভোররাতে ওরা ঘুমিয়ে পড়বে। 

আমি হয়তো কবিতাসংগ্রহ বের করবো একটা। 

তোর পছন্দ, জয় গোস্বামী। আমি তোর সবচাইতে পছন্দের কবিতাটা পড়বো। মনে আছে, তুই শোনাতিস? 

"সারা গায়ে আজ ছত্রাক আমাদের
চোখ নেই, শুধু কোটর জ্বলছে ক্ষোভে
আমি ভুলে গেছি পুরুষ ছিলাম কিনা
তোর মনে নেই ঋতু থেমে গেছে কবে"

তারপর 

তারও অনেক পর,

তোর প্রিয় ডিলানের গান শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক পর,

আমার চা, তোর আমেরিকানো শেষ হওয়ারও অনেক পর,

তুই বারান্দাটা ছেড়ে চলে যাস প্লীজ?

আমি ঝাঁপ দেবো। 

সাদা আলো ঘিরে ফেলেছে আমায় তনিমা। 
শীত নামছে।

Comments

Popular Posts