নজরকাঠি

অনেক ছোট ছোট সামন্তরাজা বুলডোজার চালাচ্ছে আমার ওপর। গুঁড়িয়ে যাচ্ছে আমার সাদা হাড়গোড়। থুতু ফেলছে আমার পাশে রাখা কবিতার খাতায়। ছুঁড়ে ফেলছে আমার কাগজফুল। 

আমি আর কি করবো বল? ওরা তো বুঝে গেছে, আমি ভন্ড, অপদার্থ। শুধু তুইই বুঝলি না। 

তা ধিন ধিন না বাজনা বাজাই, আমি বাজনদার,
আমার পিঠে কাগজফুলের পাহাড়।

মন্ত্র পড়ি, মাথা খাই, গেরুয়া পরে লোক ঠকাই, 
দেবী, আমার একটা নজরকাঠি চাই।

ধোঁয়ার পাহাড় খাক হয়ে যায়। ঠোঁটের পরতে শুধু রক্তের দাগ, কষ গড়িয়ে রক্ত। কার মাথা খাচ্ছি কে জানে? কার মাথা খাব কে জানে। আগুন লেগেছে আমার ঘরে তাই।

তাই ভায়ের ঘরেও আগুন লাগাই?

তাই সইয়ের ঘরেও আগুন লাগাই?

নজরকাঠির খোলসে মন্ত্র পড়ে দিস,
আমার একটা মরণকাঠি চাই।

কিসমতের‌ দরজায় টোকা দিচ্ছে হরেক কিসিম লোক। ভাঁড়ের গায়ে বাঘের উর্দি, ফেউ ডাকছে আমার কানে। তাদের সিলিং ফ্যানে ঝুলছে আপদ, গরহাজির শুধু আমার নাম। আমি তো জীবন চুষে খাই। আমার ব্যবসার নেই সোহাগ। ওরা কয়, তলে তলে, এ মাল গুপ্তচর। 

তাই হবে বা, তার আগে মা আমায় তুলে নে।
দেবী, মাথা খা আমার, একটা শুধু নজরকাঠি দে।

Comments

Popular Posts