গোস্তাক
আমাদের ব্যালকনিটায় যত প্রেম লেগে,
এত প্রেম বোধ হয় কোন যুদ্ধক্ষেত্রের প্রেমপত্রেও ছিল না,
তোকে দুহাতে জড়িয়ে যত আদর সেরেছি,
সে সব হয়তো নতুন একটা মঙ্গলকাব্যের খোরাক,
রাত কেটেছে তোর কোমর জড়িয়ে ঠান্ডা জলের স্রোত গায়ে মেখে,
ভোররাতে ব্যালকনিকে সাক্ষী রেখে আমরা বেডরুমকে টেনে এনেছি জনসমক্ষে,
সেই নগ্ন প্রেমের প্রহসন
হয়তো দেখতো দু একটা দলছুট কাক,
ভোরের মুখ কালো করা মেঘ,
আর হিংসেয় জ্বলে যাওয়া ক্যাকটাসগুলো।
তোর মসৃণ বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে আমি আমার ছেলেবেলার গ্রামের মেছো গন্ধ খুঁজতাম।
পাইনি অবশ্য কোনোদিন।
তোর ঘাড়ের আনাচেকানাচে আমি খুঁজেছি মামদো, ব্রহ্মদৈত্য, আর একানড়ে দোকানড়েদের।
তাও পাইনি।
সোহাগের সীমানায় এসে তোর শীৎকার আমার ধমনীতে সাড়ে সাতশ হর্সপাওয়ার ছুটিয়েছে বটে,
কিন্তু তারপরে আমার কান্না মোছার জন্য কোনো অভিনন্দন জানায়নি।
বরং ব্যালকনির মনখারাপের বাতাস থেকে টেনে নিয়ে গেছে লাবণ্যে ভরো-ভরো ঠান্ডা শোবার ঘরে,
টেনে নিয়ে গিয়ে বিছানাকে করেছে কালীঘাটের পট,
আমাকে করেছে খাজুরাহো।
তারপর একদিন,
খাজুরাহোর যক্ষ তোর বান্ধবীর চোখে দেখে ফেললো মামদো, ব্রহ্মদৈত্য, একানড়ে দোকানড়ে, সব।
তোর বান্ধবীর বুকে মুখ গুঁজে পেয়ে গেল মেছো গন্ধ,
যক্ষ ভাবল, ঘর বাঁধি!
আর তখনই সে আবিষ্কার করলো,
এ মেয়ের তার অন্য তানপুরায় বাঁধা!
এ গাইছে অন্য তান!
যক্ষের ঘর বাঁধার আগেই ভাঙলো,
নটেগাছটিও মুড়োলো,
এখন আছি শুধু
আমি যক্ষ,
আমার ব্যালকনি,
ব্যালকনি জুড়ে তোর গন্ধ,
আর,
হিংসুটে ক্যাকটাসগুলো!
Comments
Post a Comment