অনাদি
পীরবাবার মাঠে দেখতে এসেছিল সবাই তাকে,
শেষ বারের মত।
লুণ্ঠিতা, ধর্ষিতা,
গলায় অমানুষ আঙুলের ছাপগুলো,
কদাকারভাবে দাঁত খিঁচিয়ে হাসছিল।
দেখতে এসেছিল মাদী শেয়ালের দল,
তাদের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিল ঘুঘুডাঙা থেকে
গোপাল বোষ্টম,
সেও এসেছিল,
আর এসেছিল নিজের জীবনের কুড়িটা বসন্ত নষ্ট করা ঘোষবাড়ির মেয়ে পেঁচি,
এসে সে খিলখিল করে হাসছিল
জরায়ুতে তার এখনও পাপের দাগ লেগে।
রঘু কাপালিক পাঠিয়েছিল তার পোষা প্রেতেদের,
তারা এনেছিল কদম ফুল,
তারা এনেছিল ঘাসের পোঁটলা,
হাওয়ায় ভাসিয়েছিল তন্ত্রের সুর,
আঁচলে ঢেকে এনেছিল নিষিদ্ধ কবিতা।
খবর পেয়েছিল ভোরের কাক,
খবর পেয়েছিল শিশিরের স্পর্শে কুঁকড়ে থাকা লতা,
আকাশের গায়ে আটকে থাকা সেজো পরির ফ্রক,
আর পীরবাবার মাঠে পুঁতে দেওয়া অবাঞ্ছিত ভ্রূণের লস্কর।
তারা কেউ এসেছিল,
কেউ বার্তা পাঠিয়েছিল শ্রদ্ধার নিগমে।
ভিড় হয়েছিল খুব,
আর ঠিক সেই ভিড়ের মাঝে,
পীরবাবার মাঠকে সাক্ষী রেখে,
অনেককে কাঁদিয়ে, গুঙিয়ে,
বুড়ি চাঁদ,
মরে গেল।
Comments
Post a Comment