বৃত্ত
খুব যুদ্ধ হল।
রাজা - মন্ত্রী, সেপাই সান্ত্রী, নাজির, উজির,
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খুব যুদ্ধ করলো।
প্রথম দিনেই কাটা পড়লো রাজার ঘোড়া,
দ্বিতীয় দিনে মন্ত্রীর ঘোড়া,
তৃতীয় দিনে মন্ত্রী।
(ততদিনে অবশ্য সৈন্যক্ষয়, রক্তক্ষয় ইত্যাদি হয়েছে অবশ্যই, কিন্তু সে সব অগ্রাহ্য করলেও কিছু অশুদ্ধ হয়ে যায় না)
মন্ত্রী কাটা যেতে(অথবা হয়তো লোকবলের অভাব দেখে)
রাজা বললেন,
রাজধানী থেকে জোয়ানমদ্দা ছেলেগুলোকে ডেকে আন,
তারাও হাত লাগাক!
ভয়ে শীর্ণ পান্ডুরবর্ণ মহারাজাধিরাজকে রেখে,
সান্ত্রী গেল ঢ্যাঁড়া পিটতে, রাজধানীতে,
হেঁকে বললো, সব জোয়ান পুরুষকে সাথে যেতে হবে,
তবে হ্যাঁ,
যুদ্ধের পরে সবাই পাবে দশ স্বর্ণমুদ্রা,
আর বিছানা গরম করার জন্যে দুটি....
আচ্ছা, তা নাহয় থাক।
মোদ্দা কথা এই যে,
ইচ্ছে না থাকলেও,
এক ক্ষ্যাপা কবিকেও নিয়ে যাওয়া হল যুদ্ধ - যুদ্ধ খেলতে।
তার হাত কলম ব্যতীত কোনো হাতিয়ার ধরেনি,
সে প্রেমের প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কোনো স্লোগান আওড়ায়নি,
প্রেমের পতাকা ছাড়া অন্য সব পতাকা তাকে বর্ণান্ধ করে দেয়।
তবে হ্যাঁ,
এও ঠিক যে,
ছেলেটা লড়েছিল বিস্তর।
যুদ্ধবাজ এই কসাইদের ঘামের গন্ধ তার বুকে চেপে বসলেও,
গলা কাটতে ঠিকই শিখেছিল সে,
তারপর,
যুদ্ধের শেষে,
যুদ্ধে জয় হলে,
যখন শত্রুদের মাথা, সোনাদানা, আর বিবস্ত্র রমণীদের বণ্টন হচ্ছিল,
তখন সে হারিয়ে গিয়েছিল।
তারপর একদিন মরানদীতে জলের ফোঁটার মত,
ছেলেটা ফিরে এল সেই প্রান্তরে,
সৈনিক নয়, কবি হয়ে।
তার খোঁজার ছিল অনেক কিছু।
শাকচুন্নি আর ব্রহ্মদত্যি,
সাদা পরি, লাল পরি, নীল পরিদের বৈঠক,
ছোট শেয়ালের কান্না,
পীরের মাজার থেকে আসা ধুনোর গন্ধ,
বেহুঁশ করে দেওয়া আলেয়ার হাতছানি,
আর অকালবোধনের বাঁশিতে বিশুপাগলের ঠোঁট,
আর্তনাদ!
এক এক করে সবকটা জোনাকি যখন মরে গেল,
এক এক করে তারারাও খসে গেল,
আকাশ থেকে চাঁদও ঝরে গেল,
তখন,
ছেলেটা বুঝল,
কালের চিতায় আজ তার কবিজন্ম শেষ,
এই শ্মশানভূমিতে আজ থেকে সে যক্ষ, পাহারাদার।
তারপর কি কেউ সাহস করে বলবে,
"তুই আমাকেই কবিতা শোনা?"
Comments
Post a Comment