২৮

আমার চাঁদভাঙা সব অপার সুখের দিনে,
তুমি একফোঁটা ঠিক বৃষ্টি হয়ে এসো।

আমার সুদিন অবাক বালুচরী,
পথ বলে দেয় দুমড়ে যাওয়া ঘড়ি,
এখন যদিও জড়ভরত নট,
দুঃখসূদন নির্বাক সংকট!

আমার চাঁদভাঙা সব দ্রোহের আগুনমাঠে,
তুমি মনখারাপের বাতাস হয়ে এসো?

তোমার গায়ে নষ্ট গাছের ছাল,
পুলিশি শাসন, দ্রোহের মায়াজাল,
কস্তুরী তোমার জমিয়ে জমির মাপ,
বেতাল জানায় অজ্ঞ মনস্তাপ!

আমার ধরা পড়ার আগে মুহূর্তেও,
তুমি রাইফেলে শেষ বুলেট হয়ে এসো?

আমার গুরু পাপের গোলাপবাগ,
আদিতালে বাঁধি মৌনী জন্মদাগ-
সব জাতকের খেলা শেষ হলে পর,
আমার দালানে জমা হয় লস্কর!

সেই লস্কর যদি আমায় বাঁধতে চায়,
তুমি ব্যাথার মাঝে সোহাগ হয়ে এসো?

পড়বে মনে তোমায় বিকেলবেলা,
আকাশপানে নাম ভোলানোর খেলা,
কিন্তু বিপ্লব হলে আমি যদি ভুল করি?
কাপুরুষ সেজে গেরুয়া বসন ধরি?

তাই যদি হয়, আমার জপমালায়,
ইষ্টদেবীর নাম হয়ে তুমি এসো!

অথবা যদি আঁতেল সাজি আমি,
প্রাণের চেয়েও কবিতা যখন দামী,
কিংবা হয়তো বেবাক ভবঘুরে,
পথ চলতে কাব্য দিচ্ছি ছুঁড়ে-

আমার কলমে বিষণ্ণতার দলে,
শেষ কালির ফোঁটার মত এসো!

মনে পড়ে যায় আকাশ মেঘলা হলে,
কাঁধ থেকে নেমে বেতাল গেছে চলে,
তবুও কেন শ্মশানপানে যাই?
ঘর থাকতেও কবিদের ঘর নাই!

যেদিন কাব্যে টান পড়ে যাবে খুব,
সেদিন সংসারে তুমি অনীহার মত এসো!

Comments

Popular Posts