অনীহা
অনাথ চাঁদের মেয়ে মিনার্ভা আজও আমার জীবনের দরজা ঠেলে ভোররাতে ঢুকে পরে। গায়ে সুতো থাকে না, থাকে বেদমথিত অযোনিসম্ভূত নিরস বালিয়াড়ি। শুশুকের কান্না ততক্ষণে তার গোড়ালির নিচে অ আ ক খ করছে।
আমি তখন খাটের ওপর নোংরা বিছানায় হাঙরের ছবিওয়ালা ম্যাগাজিনে বুঁদ। স্কচের ত্রিকোণমিতি তখন অর্ফিয়াস সেজে আমাকে টেনে নিচ্ছে রক্তকরবীতে।
চাবিতে চাবিতে বারুদ ঠাসা, শিলংয়ের বারান্দায় ফেলে আসা একবুক কুয়াশা মিলিয়ে যাচ্ছে লাফিং বুদ্ধায়, এমন সময়...
এমন সময় জানান না দিয়ে মিনার্ভা আবার চতুর্থ অঙ্ক শুরু করবে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে বুকের কাঁচুলি ঠিক করতে করতে। আকাশে মেঘডমরু অভেদবোধবাক্য সোহমনাদ ধরছে তারসপ্তকে, ক্যাথিড্রালের ঘণ্টা কাঁপিয়ে দিচ্ছে ঘাসের ক্ষীণ প্রাণশক্তি, আমার বুকে দশটা বেজে সাতাশের লোকালের সামনে ঝাঁপ দিচ্ছে উগ্রবাদ...
সখী-পরিবৃত মিনার্ভা হাঁ করলে ভেতরে শিমলা কল্প্যা কাজা ছাপিয়ে আমার ব্রহ্মদর্শন হচ্ছে।
বিশ্বরূপ, অহম ব্রহ্মাস্মি, নমো নমো!
এসপ্লানেড আসতে না আসতে তলানিতে চলে আসছে বর্ষাচরিত অযথা যৌনজীবনের কালমেঘলতা। দোয়েলের শিসের কাছে আমার ম্যাগাজিন ভরা বারুদ নেহাতই মাংসখন্ড, কিন্তু এসব তো সে জানে! তাও তাসের ঘরের রাজনীতি পড়াতে সে কি নামছে আমার গলার দড়ি বেয়ে, মধুর ফোঁটার মত?
নাকি সেও গুলিয়ে ফেলছে কে রথী আর কে সারথি?
Comments
Post a Comment