কবিতা

হাথরাস যখন জানান দিয়েছিল ভোরের দৈনিক,
আমার চোখে পর্দা নামিয়েছিল অক্ষম অশ্রু।

রাজা চালিয়েছিল বুলডোজার,
আমাদের কাঁদিয়ে,
ভেবেছিল,
এভাবেই গলা টিপে দেওয়া যায় দুর্বলের।
রাজা ভাবতে পারেনি,
আমাদের চোখের জল মাটিতে পড়ার আগেই কবিতা হয়ে যায়।

আমাদের চোখের জল ঘাসজমি বেয়ে,
আলপথ বেয়ে,
লিফলেট আর পুস্তিকায়,
মুঠিবদ্ধ হাতে আর পাঁজর ফাটা স্লোগানে,
ছড়িয়ে যায় কিউবা থেকে নকশালবাড়ি,
ছড়িয়ে যায় বুয়েনস আইরেস থেকে তেলেঙ্গানা।

নেপালের আন্ডারগ্রাউন্ড বা ময়দান,
অক্টোবর বা ডিসেম্বর,
গেরিলা মৃত্যু বা নিখোঁজ চিঠি,
বিপ্লব, 
দিনের শেষভাগে এসে,
নতুন একটা উপন্যাসের কথা বলে।
যদি তা লেখা নাও হয়,
লাতিন আমেরিকান কোন ডাক্তার,
কবিতায় থেকে যান বিপ্লবের।

কবিতা থেকে যায় হাথরাসের পর বাতাসে পেট্রোলের গন্ধে,
কবিতা থেকে যায় মজদুরদের ব্রহ্মনাদ,
দণ্ডকারণ্য থেকে মাকে লেখা চিঠি,
সাথীদের পুলিশের গাড়িতে তুলে নেওয়ার পর হঠাৎ নিস্তব্ধতায়।

কবিতা থেকে যায় যতদিন অন্ধ চোখে গাজার শিশু,
ঠিক সেই স্বপ্ন দেখে,
যা দেখে কলকাতার ফুটপাথ,
প্যারিসের শহরতলি,
হারলেমের বস্তি,
কালাহান্ডি,
মোসুল....

কবিতা ততদিন থাকে যতদিন আমি দেখি লাল পতাকা মুড়ে আমাকে দেখতে আসছেন কল্কি অবতার....




Comments

Popular Posts