শতাব্দীর জারজ সন্তানেরা
শতাব্দীর জারজ সন্তান আমরা।
তবু যখন কাছে টেনে নিতে,
বুকে আজান শুনতে পেতাম আমি।
চিমনির ধোঁয়ার মতো কালো নিস্পন্দ মাংসপিণ্ড হয়ে,
যখন ঘুমিয়ে পড়তাম লকআপের শীতে,
দেবীমূর্তি মনে রেখে,
কান্না পেত খুব।
আমাকে কেন ভালোবাসতে গেলে তুমি?
কাশ্মীর হোক, বা ফিলিস্তিন,
কিউবা হোক বা কলকাতার গোপন কাটাছেঁড়া,
সবার ফুটপাথের আকাশ ভাঙিয়ে কাব্য লিখেছি আমি,
পকেটে ভরেছি তিরিশ রৌপ্যমুদ্রা,
ক্রুশকাঠে টাঙিয়ে দিয়েছি পালাবদলের পাঁচালী,
আমার ক্ষমা নেই!
তাও আমায় দেবতা বলে ভাবলে কেন?
চেষ্টা করেছিলাম গোলকধাঁধা থেকে পালিয়ে যাই খুব দূরে,
খুব উষ্ণ কোনো নগরীতে।
যেখানে থাকবে না কোন বিবেকের দংশন,
ভাববো না আর কটা বাচ্চা মরে গেল,
আর কটা ডাক্তার জেলে গেল।
কিন্তু তোমার চোখে তাকাবো কিভাবে?
আমি না দেবতা!
তাই তোমাকে অচ্ছুত করে রেখে,
আমি কবিতা লিখছি,
সামনে যে যমদূতই আসুক,
আমি কবিতা ছুঁড়ে দেব!
কাদা ঘাম দিশি মদ লেবার কোড মজুর বিপ্লব ইউনিয়ন স্বাধীনতা -
সব ঘেঁটে গেলে,
তোমার কাছে যদি পালিয়ে যাই ফের,
দেবতা বলে চিনতে পারবে তো?
Comments
Post a Comment