ঘাস
নদীর কাছে তোমার কথা কই,
আজ অজ গাঁয়ে ঠান্ডা রক্তের প্রাণী,
সম্পদ বলতে চোখ দুখানি,
আঙুলের ফাঁকে গাছেদের ইতিহাস।
আমার আর ভয় করে না মা।
একটা পোড়া দেশের পোড়া হারামজাদা,
নাক অব্দি জল উঠে এসেছে আমার,
সব প্যাঁচারা যখন দিল ডাক,
আমি দাওয়ায় উঠে এসে দেখলাম,
আলেয়া ছিঁড়ে দিচ্ছে কংসাবতীর বুক।
হাতে আমার বন্দুক ছিল না গো মা।
ছিল না বোমা,
ছিল না পেটো কিংবা কাস্তে,
ছিল না একটা কলম,
আমি মাঠ থেকে একমুঠো ঘাস ছিঁড়ে দৌড়ে গেছি।
কেন?
আমার যে আর ভয় করে না মা!
বাতাসে বারুদ নয়, টাকার গন্ধ ছিল।
জমিতে ঘাস নয়, লাশ বিছানো ছিল।
মিছিলে তারা নয়, জোনাকিদের দাপাদাপি!
আমার বুকেও প্রেম নয়, স্বপ্ন মজুত ছিল।
স্বপ্ন যারা দেখতো, তারা উধাও হয়ে গেছে।
মা, আজ যাদের কাগজ নেই,
তাদের গলা টিপে ধরবেন রামচন্দ্র!
তাদের লাশের গন্ধ শুঁকে আমি,
সতেরো লাখ স্বপ্ন একাই দেখবো!
আমি চোখের জল চেপে কাগজ দেখাবো না।
আমি চোয়াল চেপে দেখাবো, আমার পাঁজরে কোন দেশের নাম লেখা আছে!
আমি তাদের ভিড়ে হারিয়ে যাবো মা,
যাদের বুক চিরলে না রাম, না আল্লাহ,
শুধু ভাতের গন্ধ বেরোয়!
আমি আজ হারিয়ে গিয়ে একলা মাঠে একলা নদীর পাড়ে।
আমার সাথে যারা ছিল,
তারা আজ কেউ আর সাথে নেই।
আমার হাতে তবু একমুঠো ঘাস,
আমি ওত পেতে আছি মা,
রাজার গদিতে ছুঁড়ে দিলেই,
এ ঘাস আগুন জ্বালিয়ে দেবে!
আমায় তখন পোড়া ঘাসের মধ্যে চিনে নিও?
কেন করব এসব?
আমার যে আর ভয় করে না মা!
Comments
Post a Comment