ইন্দ্রকে

ইন্দ্র, তোর মনে পড়ে বালুরঘাটের সেই রাত?

নাকে পাঁক ঢুকে যাচ্ছিল তোর আর আমার,
দম নিতে কষ্ট হলেও আতঙ্কে চুপ, প্রতিরোধে স্থির, আর,
প্রতিস্পর্ধার আড্রেনালিনে বুঁদ হয়ে আমাদের চোখ জ্বলছিল!
তুই ঠিকই টের পাচ্ছিলি ইন্দ্র,
ওরা ঘিরে ফেলছে আমাদের!
আল্ট্রামেরিন আকাশের নিচে দুটো বুদবুদের মত,
আমরা সরীসৃপ হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম বাইরের দিকে।

তুই আমাকে একবারও বলিসনি, বুঝতেও দিসনি,
কখন, কিভাবে ওরা জেনে গেল আমরা ওখানে আছি।
কেন?
ভেবেছিলি আমি ভয় পেয়ে যাব?

অনেক পরে, সেই যে দেখা হল, কল্যাণীতে,
তখন বললি, না না, ফাজলামো মারছিলাম!
ফাজলামো?
মাথার এক হাত উপর দিয়ে নাইন এমএম সাইজের ফাজলামো ছিল ওগুলো?
কিন্তু তুই তো ইন্দ্র,
আমার মহানগরীর রাতে দুহাতে ব্যারিকেড তুলে ফেলা ইন্দ্র।
আমার ক্যাম্পাসে লুম্পেন ঠ্যাঙানো ইন্দ্র।
পুলিশের দিকে মলোটভ ককটেল ছোঁড়া ইন্দ্র!


ইন্দ্র, তোর মনে পড়ে দার্জিলিঙে যখন তুই একটা ব্যাগ এনে ঠক করে রাখলি টেবিলে?
ভেতরে ঠাসা বই, লিফলেট, 
আর আমার জন্যে শক্তির কবিতা?
তখন আমরা কবিতা পড়ছিলাম বসে, 
অথবা ধর সেন্ট জোসেফস এর সামনে, আমি ধীর গলায় আবৃত্তি করছিলাম, আনন্দ ভৈরবী-
কোথা থেকে যে এক কোম্পানি লুম্পেন জুটে গেল!
তুই না থাকলে ওখানেই ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া খুব অস্বাভাবিক কিছু ছিল না!
আর তার পরে তো মা চিনে গেল তোকে।

আজও আমায় মা জিজ্ঞেস করে,
"সেই স্কটিশের ছেলেটা কোথায় রে?"

ইন্দ্র আমি সত্যিই উত্তর জানি না রে!
তুই তো হারিয়ে গেলি তারপর!
অন্তত, সবাই বলে তুই হারিয়ে গেছিস।
তুই বলিস দেখা হলে কোনোদিন, কলেজ স্ট্রিটে, বা বরানগরে;
তুই সত্যিই হারিয়ে গেছিস কিনা!

বলিস আবার, ফাজলামো মারছিলি!

নাকি ইন্দ্র, 
আমিই একদিন, ঘর গুছিয়ে,
তোর পাশ থেকে হারিয়ে গেলাম?

Comments

Post a Comment

Popular Posts