স্রোত
চাঁদনী রাতে,
ঝুরঝুরে হয়ে আসা প্রাইমারি স্কুলের দাওয়ায় বসে,
আলেয়া দেখতে পাওয়ার যে ব্যাপারটা...
কেলেঘাই নদীটা বড় মজার।
গরমে বিশেষ খটখটে না হয়ে গেলেও,
জল তেমন থাকে না।
তখন চিংড়ির চাষ করা যায়।
আবার ভরা বর্ষায়,
কেলেঘাই গ্রামের ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
ঠিক এরকমই এক গরমের রাতে,
আমি কেলেঘাইয়ের নিথর বুকে,
একচিলতে হঠাৎ-আলেয়া দেখেছিলাম!
........
দুহাতে কেলেঘাইকে ধরে,
সাঁতার না শেখার দরুন ভেসে যাওয়ার যে ব্যাপারটা....
আলেয়ার ধরনটাও বেশ চমৎকার!
চোখ থেকে ঠিক এক ইঞ্চি দূরে যখন,
তখন আলেয়ার গভীরে নিথর শুশুক দেখা যায়।
ঠিক যেমন নিথর ছিল কেলেঘাইয়ের বুক,
যখন তাতে আমি প্রাণপণ সমুদ্রের গন্ধ খুঁজেছিলাম!
.........
উদ্দাম হাওয়ার গল্প বলা এক রাতে,
আঙুলের ডগায় বিদ্যুৎ নিয়ে,
গামছায় মুখ বেঁধে যখন আলপথ বেয়ে,
শিকারি দৃষ্টির সাথে ফ্যান্টম-ফ্যান্টম খেলি,
তখন বুকে এই কেলেঘাই পুষে,
পাঁজরের কাঁপন থামাই।
মাটি মেখে সারা গায়ে,
যে রাতগুলো আমি ওয়দিপাস হতে চেয়েছিলাম কেলেঘাইয়ের কাছে,
সে রাতগুলো স্বহস্তে দাফন করার পর,
শিকার হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ি।
.........
অল্প বয়সের কেলেঘাইকে চুমু না খেয়েই,
আমার বোধিসত্ত্ব হয়ে যাওয়ার যে ব্যাপারটা....
Comments
Post a Comment