রিস্কা জানলায় এসে দাঁড়ায় - ২
৬.
যখন বারো ক্লাসের লকডাউনে সবাই বেহদ্দ রকমের ঘেঁটে আছি, তখন আমার পরিচয় হলো মিনার্ভার সাথে। মানে, আগে যে পরিচয় ছিল না, তা নয়, তবে অন্য নামে চিনতাম। মিনার্ভা হিসেবে নয়।
আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলাম, বেচারি খুব দুঃখী। এক বৃষ্টিভেজা (বামপন্থী?) রবিবারে, থ্রি সি বাই ওয়ানের লাস্ট সীটে বসে, গায়ে গা ঠেকিয়ে, মিনার্ভা প্রায় ফিসফিস করে আমার কানে কানে বলেছিল, "জানিস, আমার বাবার আরেকটা বউ আছে?"
চমকাইনি, কারণ আমি জানতাম। জানতাম, কারণ আমার মত নিট হারামীদের সেটাই কাজ। কিন্তু তা বলে, ক্রমশ ঘন হয়ে আসা, আমার বুকের লোম নাড়িয়ে দেওয়া মিনার্ভার শ্বাস-প্রশ্বাসে আমি ভয় পেয়েছিলাম সেদিন। বুঝেছিলাম, সব ঠোঁট "ভালবাসি" বলে ফেললেও, আমার মত পাঁড় বোকাচোদার কাজই হলো সেটাকে ঘাঁটা। তাই আরো একটু নিবিড় হয়ে না বসে, আমি বলেছিলাম, "ওহ?"
মিনার্ভা বুদ্ধিমতী। বুঝে ফেলেছিল আমার মতিগতি। তাই ক্রমে ঝাপসা নিওন হয়ে যেতে থাকে। যে শহরগুলোর ছবি আঁকতো ও, তার চেয়েও আরো, আরো অন্ধকার হয়ে যেতে থাকে ও।
তারপরেও ও আসতো আমি ডাকলে। আমরা একসাথে ভিক্টোরিয়া গেছি তারপর, সেও এক বৃষ্টির দিনে। আকাশে বাদুড় উড়ে যেতে দেখেছি গলা সূর্যের লালচে আলোয়। অশ্বত্থ গাছে একলা কবি ঝুলছিল কবে, সে গল্পও বলেছি। দয়াপরবশ হয়ে, ও বলেছে, "তোর ব্যাগটা ধরে দি?" ধরেও দিয়েছে।
ও সাজলে খুব ভালো লাগত। লম্বা করে লাইনার লাগাত, আর একটা ছোট্ট টিপ। আর তাই দেখেই, পাতি বাংলায়, হেজে গিয়ে, ক্লাস, এবং সংগঠনের মিটিং, দুটোই বাংক করে, নেতাজি ভবনে যেতাম দাভিত'দার দোকান থেকে আতর কিনতে। গন্ধ পেয়েছিলাম তার, অনেক পরে, এক ঈদে, নাখোদার পাশের এক গলিতে ওর কলারবোনে চিবুক রেখেছিলাম যখন। কিন্তু ততদিনে অনেকগুলো ব্যর্থ পুরুষত্বের ক্রমবর্ধমান তালিকায় আমি একটা জায়গা দখল করে ফেলেছি। অহেতুক তুলনা টানার জায়গায় যখন এসেছে পরিস্থিতি, ও নিজেই বলেছে, "আসি।"
৭.
আমি দার্জিলিঙে ভূত দেখেছিলাম। চাক্ষুষ।
এই গল্পের শুরুও লকডাউনে, যখন Omegle খুলে নানা দেশবিদেশের লোকজনের সাথে আড্ডা দিতাম। তার কথায় মনে হয়েছিল সে ট্রাবলড, কোন একটা কিছু খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত, এবং ক্রমেই আরো জীবন-বিমুখ।
তারপর মোলাকাত হয়েই গেল একদিন। টাইগার হিল থেকে ফেরার পথে, ঝাউবনে। ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে অদ্ভুত নৈসর্গিক সঙ্গীত শোনা যায়, বলেছিল সে।
নিস্তব্ধতা। এখন শুধু নিস্তব্ধতা ভিড় করে আছে।
Comments
Post a Comment