১.
মানুষ ঘুমিয়ে যেভাবে স্বপ্ন দেখে, ঠিক তেমনটা নয়।
ঝিমধরা বিকেলে, অনেকটা মদ খেয়ে,
চুর হওয়া, মাথা ঘোরানো প্রায়-সন্ধেয়,
যেমনটা পুরোনো বায়স্কোপে হতো, তেমনটা।
পাঁচটা পাহাড় দেখি রোজ,
আদিম তাদের রূপ,
তাদের বাতাসে সতেজ সবুজ ভেজা পাতার গন্ধ,
তাদের মাঝটিতে মায়ার চাদরে মোড়া বাঁজা জমি,
যেন আইবুড়ো সেজে থাকা কোন কলঙ্কিনী,
বাতাসে তারও ভেজা গালের গন্ধ।
বাঁজা মাটির কান্না শুনি, আমরা যারা সেই মায়ার চাদরে লেপ্টে যাই।
২.
আমরা সেই পাহাড়ের মাঝে বসে থাকি।
আমরা, অর্থাৎ আমি এবং আমার না চেনা কয়েকজন।
তাদেরকে আমি কখনই দেখিনি আগে,
কিন্তু তারা বলে তারা আমার আপনজন।
আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন এক প্রৌঢ়।
আপনমনেই একটা অতি পুরনো বই থেকে কিছু একটা পাঠ করেন বটে,
কিন্তু যেহেতু তা কবিতা না,
সেহেতু আমি তা বুঝতে পারি না।
অন্যরা দেখি দিব্যি বোঝে,
মুন্ডু নাড়ায়।
৩.
যত রাত গভীর হতে থাকে,
(অথবা আমার নেশা চড়তে থাকে)
আমি দেখি, পাহাড়গুলো কেমন ক্ষয়ে ক্ষয়ে আসছে।
আমার চারপাশের মানুষগুলো উঠে দাঁড়ায়,
উন্মাদের মত চ্যাঁচাতে থাকে-
আমার অসহ্য লাগে, পাগল পাগল লাগে,
আমার মনে হয় আমার কান দুটো ফেটে যাবে,
কেননা শুধু মানুষগুলো নয়,
ওই ক্ষয়িষ্ণু পাহাড়,
ওই বাঁজা জমি,
ওই ভেজা পাতা,
ওই আকাশ ভরা আতঙ্কিত তারার ভিড়,
ওই পোকামাকড় কীটপতঙ্গ পশুপাখি-
আর্তনাদ করে!
আকাশের রং আর্তনাদের চোটে যখন নীল থেকে কালো হয়ে আসে,
তখন সেই অন্ধকারের কালিমার মাঝে,
আমি দেখতে পাই,
সেই ন্যাড়া পাহাড়গুলোর ফাঁকফোকর থেকে,
জ্বলে উঠছে অগুনতি মশাল।
পাহাড়ের মাঝের পাথুরে পথ বেয়ে নেমে আসছে কয়েকটা পাথরে গড়া মূর্তি।
পিঁপড়ের সারি যেন,
সেই মূর্তিদের চোখে জ্বলছে আলো,
ছন্দোবদ্ধভাবে তারা আসছে আমাদের দিকে।
৪.
নারী-পুরুষ, জোয়ান-বুড়ো, সবাই আছে সেই সারিতে।
সবার কাঁধে ঝোলে রাইফেল, মুখে ভাসে অকৃত্রিম হাসি।
তারা আমাকে এবার ভালোবাসার কথা বলে,
এবং যেহেতু তা কবিতা,
সেহেতু আমি তার প্রতিটি শব্দ বুঝতে পারি।
Comments
Post a Comment