পাঁজর ভরা জেলাটিন
১.
মেঘের দালান ছুট লাগাত চা-বাগানের মাঝে,
মেঘের থাকত শুধু বেগনি রুমাল, তাই দিয়ে চোখ মুছত।
হলদে বিকেল আসলে পরে, মেঘ মিশত বিকেল-জ্বরে,
বিকেল অন্ধ, অসতর্ক, মেঘ ঢুকত ঝড়ের ঘরে,
ঝড়ের ভাঁজে, নাড়ির গতি বাড়ত, শুধু বাড়ত,
হুশ করে মেঘ যাচ্ছে উড়ে, ছেলেটা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত।
মেঘের দালান বিছিয়ে থাকত কোঁকড়া কালো চুল,
রাতযমুনায় একলা নাওয়ে বিলাসখানি তোড়ি,
সেতার বাজে একটাই সুর, প্রান্তরে বিস্তার প্রচুর,
পিয়ালছায়ায় চাইত যেতে মেঘের দালানবাড়ি।
উপোসী শরীর, মেঘ চাইত সফেন সমুদ্দুর!
গুলমোহরও কী চাইত মেঘ, কৃষ্ণচূড়াও চাইত?
বিলাসখানি খতম হয়ে, আশাবরীর বিস্তারে,
ছেলেটা অপু হতে চেয়েও হলদে গোলাপ হয়ে বাঁচত!
ফেরিঘাটের মাঝরাতে আর নভেম্বরের রোদ্দুরে,
মেঘ হয়তো যখন একটিবার ভালবাসতে চাইত,
বিকেল ঘিরে ঝড় নামতো, সেই ঝড়ে ফের ঘর ভাঙত....
ছেলেটা পাঁজর ভরে জেলাটিন, শুধু জেলাটিন পুষে রাখত!
২.
ঝড়ের নাহয় দেশ হয় না, শহর নাহয় নাই বা জানা,
যেখান থেকেই আসুক না ঝড়, মেঘ দুরমুশ হয়ে ভাঙত,
সারা শহরে সেদিন বুক-
ভেঙে বৃষ্টি হয়ে নামতো মেঘ,
ঝমঝম বা ইলশেগুঁড়ি,
অসলো থেকে শিলিগুড়ি,
ঝড়ের জানান পেয়েও ছেলেটা নেহাতই অপদার্থ!
তবু,
ছেলেটা ঠিক চোখ বুজে ঝড়ের নাম বলতে পারত!
Comments
Post a Comment