১.
কিন্তু মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে বেশ ভাল লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয়, এই যে আমি, আমি বোধ হয় খানিক হলেও করুণার যোগ্য। মানে আমি যে খুব সচ্চরিত্র, সে সার্টিফিকেট নিজেকে দিতে না পারলেও বা দেওয়ার কোনো যোগ্যতামান না পেরোতে পারলেও, একটু দয়া হয়তো আমার প্রাপ্য। বৃষ্টির দিন এইসবই মনে হয়।
এই দয়াতেই ভরসা করে কিছু লোকের সামনে দাঁড়াতে পারি, কিছু লোকের সামনে দাঁড়াতে চাই। ওই যে দুটো চেয়ার, মাঝখানে একটা অ্যাশট্রে? একটা ফাঁকা চেয়ারকে এক একটা বেয়াড়া বিকেলে কী যে গভীর অর্থবহ মনে হয়!
কখনও কখনও এক একটা ঘর দেখে মনে হয়েছে যেন আমাকে দুমড়ে মেরে ফেলতে চাইছে। আবার এক একটা ঘরে আমি কাতর প্রার্থনা করেছি, "দুমড়ে দাও আমায়। দুমড়েমুচড়ে শেষ হয়ে যাই আমি।"
সে ঘরের সিলিংয়ে যে একটা পাখা, খানিকটা ঝুল, দুটো টিকটিকি থাকবে তেমন কোনো কথা নেই। একটা কালপুরুষ, দুটো অচেনা তারা, একটা লাল সন্ধ্যতারাও থাকতে পারে। এমনকি রোলিং ইন দি উইন্ড বা স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন যে থাকবে না, তারও গ্যারান্টি নেই। থাকবে না যেটা, সেটা হলো ওই গজদাঁত ঝলকানো মেয়েটার অনাবিল হাসি। আমি এক ঘরে থাকলে ওরই শেষে দমবন্ধ লাগে যদি?
২.
বৃষ্টির দিন মহা হারামী জিনিস। আনির কথা মনে পড়ে বারবার। আমি আনির শরীর বরাবর একটা মস্ত ফিশার দেখতে পাই। একটা বিভাজিকা। একপাশ সুবর্ণরেখার মত করুণ। বিকেলের রোদ পড়ে পড়ে সোনাবরণ বালি যেখানে আসল সোনা বলেই মনে হয়। অন্যপাশ নুবিন হিমল থেকে ঠিক যেভাবে গণ্ডকি বেরোয়, উত্তাল!
লেনিন সরণিতে, যেখানে এসইউসিআইএর পার্টি অফিসটা, তার সামনে দাঁড়িয়ে আমার এই উপলব্ধি হয়েছিল। মাইরি। খারাপও লেগেছিল। আনিকে ভালবেসেছি কি সত্যিই? নাকি শুধু চেয়েছি শরীর জুড়ে দাবার ছক, পরতে পরতে শুধু এক একটা আলাপ, বিসমিল্লাহর পাগলা সানাইয়ের মত!
বাণী নাহি, তবু কানে কানে,
কী যে শুনি, তাহা কে বা জানে,
এই হিয়াভরা বেদনাতে,
বারি ছলোছলো আঁখিপাতে-
মন করে আনিকে সেই সাদা মার্বেল-বারান্দার দরজায় বৃষ্টির দিনে বসিয়ে বাঁশিতে সুর তুলি। রং অনেক হলো, আনি ওর সাদা শাড়িটা পরে আসুক সেদিন। আঁখির কোলে জল চিকচিক করলে আমি তাই নেব দক্ষিণা।
Comments
Post a Comment