দস্তান। দস্তানগো।
মুম্বাইতেও নাকি শুধু বৃষ্টি হবে সেসময়?
আমার বৃষ্টিতে বেশ মজা লাগে। সারাদিনের ঝমঝমে বৃষ্টি। সকালে উঠে দেখব আকাশের মুখ ভার, বেলা গড়াতে না গড়াতে ঝমঝমঝমঝম। আর তারপরেই কেমন অনিবার্যভাবে মনে পড়বে বাড়িতে নুন নেই, তেল নেই, আমার সিগারেটের স্টক শেষ, আরো কত এই ওই সেই নেই। জল কাদা হাপ্টে আবার পাড়ার দোকানে ছুটতে হবে। ফিরে এসে স্নানে ঢুকে আমি একটা অপরূপ সঙ্গীত শুনতে চাই। বাইরে বৃষ্টির প্যাটার্নের সাথে শাওয়ারের জলের আওয়াজের ওভারল্যাপ। আধা স্নান করে একটা সিগারেট ধরিয়ে জানলায় গিয়ে আবার খানিকক্ষণ বাইরের গুমো-সোঁদা গন্ধ বুকভরে টানবো। এবং তারপর আবার ফিরে এসে বাথরুমের আয়নায় জমা বাষ্পের ওপর আঙুল দিয়ে বাস, ট্রেন ইত্যাদি আঁকব। এইরকমই নানা বালবিচির পর আমি বেরোতে আমার অনেকগুলো মনখারাপ পাবে, কারণ আমি নিশ্চিত জানি, আমার স্পার্টান পায়রার খুপরিতে মুম্বাইয়ের খবর আসে না।
আমার স্পার্টান খুপরিতে এভাবেই আলো আসে না। মানে আসতে চায়, কিন্তু ঘর দেখে আর থাকতে চায় না। এভাবেই না আসে সোহাগ, না গান, না হাওয়ায় উড়ে আসা সাদা ফুলের পাপড়ি।
এই খুপরিতে বসে আমি খাতা খুলব, প্রুফ লেখার চেষ্টা করব দু-চারটে, (আমাকে যেভাবে স্টোন-ওয়ারস্ট্রাস পড়ানো হয়েছে, মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে, সেভাবেই প্রুফ লেখার চেষ্টা করব,) এবং আমি জানি আমি পারব না। পেছন পাতায় আমি গত এক সপ্তাহের নানা কিছু ভালোলাগার ফর্দ লিখব, যেমন ধরো, রাখির চুলে গোঁজা ফুলটা, বা অ্যাকাডেমিতে ঋচিকের সাথে দেখা অভিমানে ঠোঁট ফোলানো কালী, বা অনুষ্কাদির মোটা করে কাজল টানা চোখ (বা/এবং চুলের কাঁটা), বা আমার পাড়ায় ঘুরঘুর করা দুটো বেড়ালছানা, ইত্যাদি।
কিন্তু এই কয়েকটা ভালোলাগা, এক প্রান্তর ধূসরিমাকে কী আর এমন ফাইট দেবে? এরপর জান্নাতুল ফেরদৌস খুঁজে মরার গল্প আছে, কেন পোষায়নি দুবারই - তার গল্প আছে, কবরে মান্টোসাহেবের সাথে গালিবের সংলাপ আছে, বিচ্ছেদের আগের রাতে কলকাতার বুক থেকে উঠে আসা উষ্ণতা আছে, অসমাপ্ত আদরের অনেক অনেক দস্তান আছে, যা জীবনের সরলরৈখিক গতিপথ চটকে চাট করে দেয়।
কিন্তু সেসব কি আর মুম্বাইয়ের বৃষ্টিতে মনে পড়ে?
সুন্দর❤️ ব্যাস এটুকুই
ReplyDelete